1
1
ঢাকা, নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক–এর নির্বাচনী জনসভায় হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে। সোমবার (৯-২-২০২৬) সকাল ১০টায় রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত এই জনসভা পরিণত হয় এক বিশাল গণসমাবেশে।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কারী সাইদুর রহমান আসাদ–এর সুমধুর কণ্ঠে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে দেশসেরা শিল্পী আবু উবাইদা রিকশা প্রতীকের নির্বাচনী সংগীত পরিবেশন করেন।

এরপর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও ১১ দলীয় জোটের নেতারা ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য রাখেন। জনসভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা ভিপি সাদিক কায়েম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক মুহাম্মদ নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন,
“মাওলানা মামুনুল হক একজন কারানির্যাতিত মজলুম আলেম। ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনে এবং জুলাই বিপ্লবে তাঁর অসামান্য অবদান রয়েছে। আপনারা যদি তাঁকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন, তাহলে জুলাই আন্দোলনের ফসল জনগণ ভোগ করতে পারবে।”
তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন,
“আপনারা কারো পক্ষপাতিত্ব না করে সত্য ও সঠিক সংবাদ পরিবেশন করুন।”
এ সময় তিনি ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন বহনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানান।
সম্মেলনের আহ্বায়ক ঢাকা ১৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক বলেন,
“আমি নির্বাচিত হলে সংসদে পবিত্র কোরআনের কথাই বলবো। আমি নির্বাচিত হলে মোহাম্মদপুর ও আদাবরের কোনো ব্যবসায়ীকে আর চাঁদা দিতে হবে না। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক একটি আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করাই আমাদের লক্ষ্য।”
সম্মেলনের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ১১ দলীয় জোটের প্রধান ও আন্তর্জাতিক ইসলামী আন্দোলনের পুরোধা আমিরে জামায়াত। তিনি বলেন,
“আমরা ১১টি দল একত্রিত হয়েছি জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, আমরা একত্রিত হয়েছি জুলাই যোদ্ধাদের স্বপ্নের ভিত্তিতে এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে। যে স্বপ্ন এ দেশের ১৮ কোটি মানুষ লালন করে।”
তিনি আরও বলেন,
“আমরা দলীয় সরকার কায়েম করবো না, কায়েম করবো জনগণের সরকার। আমরা নিজেদের বিজয় চাই না, আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, মামলাবাজ ও অপরাধজগতের কারিগরদের বিরুদ্ধে আমাদের এই ঐক্য।”
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে মাওলানা মামুনুল হক–এর হাতে রিকশা প্রতীক তুলে দিয়ে ঘোষণা করেন,
“আপনারা যদি মাওলানা মামুনুল হককে জয়যুক্ত করেন আর আল্লাহ তায়ালা ১১ দলকে ক্ষমতা দান করেন, তবে তিনি শুধু ঢাকা-১৩ আসনের প্রতিনিধি থাকবেন না—তিনি সারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য একজন মর্যাদাবান মন্ত্রী হবেন, ইনশাআল্লাহ।”
সমাবেশ শেষে উপস্থিত জনতা বিশাল মিছিল প্রদক্ষিণ করেন ঢাকা মুহাম্মদের নির্বাচনী এলাকায়।
