1
1
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তদন্তের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রশাসনিক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মন্ত্রণালয়ের একাধিক সংবেদনশীল দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে প্রভাব বিস্তার, নিয়োগ বাণিজ্য এবং গোপন তথ্য অপব্যবহারের অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
সচিব দপ্তর ঘিরে সিন্ডিকেট বিতর্ক
অভ্যন্তরীণ সূত্র ও নথিপত্র বিশ্লেষণে জানা যায়, সিনিয়র সচিবের দপ্তরকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তিনটি প্রধান অভিযোগ উঠে এসেছে—
অভিযোগ রয়েছে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ পদে পছন্দের ব্যক্তিদের বসানো হচ্ছে।
প্রভাব বিস্তার ও বিতর্কিত নিয়োগ
বিগত সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া কিছু কর্মকর্তা এখনও গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থেকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আত্মীয়-স্বজনকে পদে বসানো এবং প্রশাসনিক নীতিমালা উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষ করে কিছু ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (PO) ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার মাধ্যমে একটি সক্রিয় “তদবির নেটওয়ার্ক” পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক নজর ও নিরাপত্তা শঙ্কা
সূত্রমতে, বিষয়টি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজরে এসেছে এবং কয়েকজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সিন্ডিকেট রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সময়ে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা বাড়ে।
বিদেশ সফর নিয়ে প্রশ্ন
সম্প্রতি দুবাইয়ে পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাজে কর্মকর্তাদের পাঠানোর একটি সরকারি আদেশ (GO) নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সফরের জন্য মনোনীত ব্যক্তিদের নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ এবং এটি ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রশাসনে অসন্তোষ
মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সিন্ডিকেটের কারণে দপ্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কমে গেছে। যোগ্য কর্মকর্তারা ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, ফলে প্রশাসনের ভেতরে হতাশা বাড়ছে।
করণীয় কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন—
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম জনআস্থা ক্ষুণ্ণ করছে। রাষ্ট্রের স্বার্থে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার দাবি এখন সর্বমহলের।