1
1
ডিএম কণ্ঠ | বিশেষ প্রতিবেদন
গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা খালিদ হোসেন—যেখানে যা লাগে, সেখানেই তিনি প্রস্তুত। অপরাধ দমনে অভিনব কৌশল, ছদ্মবেশে তথ্য সংগ্রহ এবং সাহসী অভিযানে ইতোমধ্যেই এলাকাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে কাশিমপুর থানার এই ওসি।
সরেজমিনে তথ্য নিয়ে জানা যায়, প্রকৃত অপরাধীকে ধরতে প্রয়োজনে তিনি প্রেমিক, ক্রেতা কিংবা সাধারণ পথচারীর ভূমিকাতেও অবতীর্ণ হন। বাংলা সিনেমার নায়ক-ভিলেনদের হার মানানো অভিনয়ে বাস্তবের ময়দানে তিনি এক অনন্য নাম। বিশেষ করে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে আতঙ্কের আরেক নাম—ওসি মোল্লা খালিদ হোসেন।
এলাকাবাসীরা জানান, কাশিমপুর থানার এই অফিসার ইনচার্জ ছদ্মবেশে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করে একাধিক সফল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছেন। যার ফলে অনেক মাদক ব্যবসায়ী এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে, বন্ধ হয়েছে অবৈধ কর্মকাণ্ড। এতে করে মাদকের কবল থেকে অনেকটাই মুক্তি পেয়েছে এলাকার তরুণ প্রজন্ম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা ডিএম কণ্ঠকে জানান,
“আগে লোহাকৈর ও লস্করচালা এলাকায় দিনে মাদক বিক্রি ও সেবন চলত, রাতে হতো চুরি-ছিনতাই। সন্ধ্যার পর রাস্তায় বের হতে ভয় লাগত। এই ওসি আসার পর ছদ্মবেশে ক্রেতা সেজে অভিযান চালান। এখন সেই সব মাদক আখড়ায় গড়ে উঠেছে ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ। পুলিশের টহল বাড়ায় এলাকায় দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে। আমাদের এলাকা এখন পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত।”
এ বিষয়ে কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা খালিদ হোসেন বলেন,
“অপরাধীকে ধরতে গেলে প্রয়োজনে যে কোনো অভিনয় করতে হয়। কাউকে ভালোবাসা দিয়ে, কাউকে টাকা দিয়ে, আবার কাউকে স্নেহ দেখিয়ে তাদের মনের ভেতরের সত্যটা বের করে আনি। প্রকৃত অপরাধী ধরাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—বাংলাদেশের প্রতিটি থানায় যদি এমন অফিসার ইনচার্জ থাকেন, তবে মাদকের বিস্তার রোধ করা অনেক সহজ হবে।