1
1
ডিএম কণ্ঠ | বিশেষ প্রতিবেদন
সম্প্রতি আফগানিস্তানের নতুন আইনকে কেন্দ্র করে “হাড় না ভাঙা পর্যন্ত স্ত্রীকে মারধর বৈধ”—এমন শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে । ওই প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। তবে আইনের মূল দলিল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, উক্ত শিরোনাম বাস্তব আইনি ভাষা বা বিধানের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং এটি একটি অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন, যা ইমারাতে ইসলামিয়ার জারিকৃত নতুন আইনের সুস্পষ্ট অপব্যাখ্যা।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আদালতের বিচারব্যবস্থা পরিচালনার লক্ষ্যে Criminal Procedure Regulation for Courts নামে একটি ফৌজদারি কার্যবিধি জারি করে। আইনটির উদ্দেশ্য হলো বিচারপ্রক্রিয়া, সাক্ষ্য গ্রহণ, আদালতের এখতিয়ার এবং শাস্তি নির্ধারণের নীতিমালা স্পষ্ট করা—যাতে বিচারিক প্রক্রিয়া কাঠামোবদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক হয়।
আইনটির কোথাও “স্ত্রীকে মারধর বৈধ” বা “হাড় না ভাঙা পর্যন্ত সহিংসতা অনুমোদিত”—এমন কোনো বাক্য, ধারা বা নির্দেশনা নেই। বরং শরিয়াহভিত্তিক বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাজির বা সংশোধনমূলক শাস্তির ধারণা উল্লেখ রয়েছে, যা আদালতের বিবেচনাধীন শাস্তি ব্যবস্থার একটি ঐতিহ্যগত আইনি পরিভাষা। এর লক্ষ্য শাস্তি বৈধ করা নয়; বরং নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্তদের জবাবদিহির আওতায় আনা।
কিছু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে গুরুতর শারীরিক আঘাত প্রমাণের মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে কয়েকটি গণমাধ্যম সেই বিশ্লেষণকে সরলীকৃত ও চটকদার শিরোনামে রূপ দেয়। Dhaka Post যাচাই ছাড়াই সেই ব্যাখ্যাকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করায় পাঠকদের সামনে একটি বিকৃত ধারণা তৈরি হয়।
কোনো দেশের আইন নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে মূল আইনি দলিল, সরকারি বক্তব্য এবং স্বতন্ত্র বিশ্লেষণ যাচাই করা জরুরি। আলোচিত প্রতিবেদনে আইনের প্রকৃত কাঠামো ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা না করে বিতর্কিত অপব্যাখ্যাকে সামনে আনা হয়েছে—যা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থী।
দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ভিত্তি হলো তথ্য যাচাই, প্রেক্ষাপট উপস্থাপন এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখা। যাচাইবিহীন বা অতিরঞ্জিত শিরোনাম শুধু পাঠককে বিভ্রান্ত করে না; সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। আফগানিস্তানের নতুন আইন নিয়ে আলোচনায় তাই মূল দলিল ও বাস্তব প্রেক্ষাপটের প্রতি গুরুত্ব দেওয়াই সময়ের দাবি।